শিরোনাম: বাইডেনের ক্যানসার নিয়ে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের মন্তব্যে তীব্র বিতর

প্রকাশকাল: ২০ মে ২০২৫, সময়: ১২:০৪ PM

লেখক: আন্তর্জাতিক ডেস্ক | TECH SPARK BD NEWS


সংবাদ প্রতিবেদন:

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে এক বিস্ময়কর চিকিৎসাজনিত ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে উত্তাল রাজনৈতিক বিতর্ক। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশের পর তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, বাইডেনের স্বাস্থ্যবিষয়ক গুরুতর তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল।

গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসে সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “জনগণকে এত দিন অন্ধকারে রাখা হলো কেন, এটা ভেবে আমি বিস্মিত। এই ধাপে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে।”

রবিবার বাইডেনের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাঁর প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়েছে, যা এখন হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বলা হয়, তিনি গ্লিসন স্কোর ৯ (গ্রেড গ্রুপ ৫) পর্যায়ের আক্রমণাত্মক ক্যানসারে আক্রান্ত। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির মতে, এটি সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্তরগুলোর একটি।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিষয়টি অনেক আগেই প্রকাশ করা উচিত ছিল। পাশাপাশি তিনি অতীতে বাইডেনের মানসিক সক্ষমতা নিয়েও যে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তা আবারও সামনে আনেন। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বইতেও দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে বাইডেনের মানসিক সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছিল, কিন্তু তা গোপন রাখা হয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, “আমার মনে হয়, জনগণের কাছে প্রকৃত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। আগে যাঁরা বাইডেনের মানসিক সুস্থতা নিয়ে সাফাই গেয়েছিলেন, তাঁদের বক্তব্যও এখন সন্দেহের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।”

এদিকে, বাইডেনের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিনিং সীমাবদ্ধতার কারণেই এমন অবস্থায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে এবং বিষয়টি অবহেলার ফল নয়।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য মতে, “এমনও হতে পারে যে রোগটির অগ্রগতি হঠাৎ করেই হয়েছে, অথবা পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলোতে একে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এটি একটি বাস্তবতা, এমনকি উন্নত চিকিৎসা সুবিধার দেশেও এমন ঘটনা বিরল নয়।”

২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের সময়ও বাইডেনের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন ট্রাম্প। এবারও তিনি বিষয়টি রাজনীতির হাতিয়ার করতে ছাড়ছেন না। যদিও বাইডেনের দল দাবি করছে, ট্রাম্পের এমন মন্তব্য শুধুই নির্বাচনী প্রচারণার অংশ এবং এ নিয়ে অতিরঞ্জন হচ্ছে।


শেষ কথা:

এই বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনকে আবারও নাড়া দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক স্বচ্ছতা ও নেতাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের নৈতিকতা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। সামনে নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, বাইডেন ও ট্রাম্পের মধ্যকার উত্তেজনাও ততই বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তথ্যসূত্র: এএফপি, নিউইয়র্ক টাইমস, ক্যানসার সোসাইটি

TECH SPARK BD NEWS - তথ্য প্রযুক্তির সাথে সংবাদে নতুন দিগন্ত



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন